চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা অঙ্গনে শামসুল আলম বাবু ছিলেন পরিচিত এক মুখ। ক্যামেরার পেছনে থেকে তিনি দীর্ঘদিন সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতায়।
ক্যামেরা হাতে দীর্ঘ পথচলা
শামসুল আলম বাবু দীর্ঘদিন চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম অফিসে কাজ করেছেন। পরে তিনি নিউজ২৪-এর সিনিয়র ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে ছুটেছেন সংবাদ সংগ্রহের কাজে। চট্টগ্রামের নানা ঘটনা ও সংবাদ টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে ভূমিকা রেখেছেন।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সদস্য ছিলেন তিনি। টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (টিসিজেএ), চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুইবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহকর্মীদের কাছে ছিলেন অভিভাবক
শামসুল আলম বাবু শুধু নিজের পেশাগত দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। সহকর্মীদের পাশে দাঁড়াতেন। সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার আদায়েও ভূমিকা রেখেছেন।
তরুণ ও নবীন চিত্রসাংবাদিকদের কাজ শেখানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো। তাঁদের পেশাগত দিকনির্দেশনা দিতেন। সহকর্মীদের বিপদে এগিয়ে আসতেন। তাঁর এই ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন সহকর্মীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাবুর স্মরণে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বলেন, শামসুল আলম বাবু সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে গেছেন। তিনি তাঁকে সৎ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শামসুল আলম বাবু আহত হয়েছিলেন।
রেখে গেছেন কর্মময় জীবনের স্মৃতি
শামসুল আলম বাবুর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন শোক প্রকাশ করে। সহকর্মীরা তাঁকে স্মরণ করেছেন একজন অভিজ্ঞ ভিডিও জার্নালিস্ট, সংগঠক ও সহমর্মী মানুষ হিসেবে। তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতি চট্টগ্রামের গণমাধ্যম অঙ্গনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ক্যামেরার সামনে যাঁরা সংবাদ তুলে ধরেন, তাঁদের কাজের পেছনে থাকা ক্যামেরা সাংবাদিকদের অবদানও তিনি মনে করিয়ে দেন। শামসুল আলম বাবুর জীবন সেই নীরব অথচ গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত ভূমিকার একটি স্মারক।
শামসুল আলম বাবুর মৃত্যু
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন শামসুল আলম বাবু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তথ্যসূত্র
১. দৈনিক আজাদী — শামসুল আলম বাবু
২. দৈনিক আজাদী — ক্যামেরার পেছনে থেকে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে গেছেন চিত্রসাংবাদিক বাবু: মেয়র
৩. সিভয়েস২৪ — চিত্রসাংবাদিক বাবু ছিলেন সৎ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ
৪. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম — সাংবাদিক বাবুর মৃত্যুতে সিইউজের শোক
৫. সরেজমিন বার্তা — চট্টগ্রামের সিনিয়র টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট শামসুল আলম বাবু আর নেই





