Mujtaba Saud: Remembering the Man Who Kept Others Alive in Memory
কেউ কেউ চলে যাওয়ার পর তাঁদের পরিচয় দিতে গিয়ে একটি শব্দ যথেষ্ট হয় না। মুজতবা সউদ ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি সাংবাদিক ছিলেন। চলচ্চিত্র নিয়ে লিখতেন। আবার চলচ্চিত্রের জন্য গল্প ও সংলাপও লিখতেন। টেলিভিশনের জন্য লিখেছেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের জীবন ও কর্ম নিয়ে লিখেছেন। ছিলেন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত। কিন্তু তাঁর কাজের একটি দিক তাঁকে আলাদা করে মনে রাখার মতো। তিনি অন্যদের স্মরণে রাখতেন।
কোনো চলচ্চিত্রশিল্পীর জন্মদিন, কোনো কবির মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জীবন ও কর্ম—এসব নিয়ে তিনি লিখতেন। পুরোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে যাচাই করার চেষ্টা করতেন। বিস্মৃতপ্রায় মানুষ ও ঘটনার কথা নতুন করে পাঠকের সামনে নিয়ে আসতেন। আজ সেই মানুষটিকেই স্মরণ করতে হচ্ছে।
সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে পথচলা
মুজতবা সউদকে সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমগুলো চলচ্চিত্র সাংবাদিক, কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর এক সময়ের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক।
তবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস এখনো সহজলভ্য নয়। তিনি কোন পত্রিকায় কত বছর কাজ করেছেন কিংবা সাংবাদিকতা জীবনের শুরু কোথায়—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য উন্মুক্ত সূত্রে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর জীবনী লিখতে গিয়ে এই অংশে অনুমান করার সুযোগ নেই।
তবে তাঁর নিজের নামে প্রকাশিত লেখাগুলো থেকে বোঝা যায়, জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি লেখালেখির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি লেখায় কবি, গীতিকার ও সাহিত্যিক আবু হেনা মুস্তাফা কামালের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মুজতবা সউদ। এটি ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের লেখালেখির একটি পরিচিত ধারা।
চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদের স্মৃতিচারণেও সেই পরিচয়ের কথা উঠে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মুজতবা সউদ চলচ্চিত্রশিল্পী, গায়ক-গায়িকা, কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিয়মিত লিখতেন। অতীতের কোনো তথ্য নিয়ে সংশয় থাকলে তিনি তা যাচাই করার চেষ্টা করতেন। এই কাজকে কেবল স্মরণলেখা বলা যায় না। এর মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক স্মৃতি সংরক্ষণের একটি প্রয়াস।
চলচ্চিত্রে প্রবেশ: গল্প থেকে সংলাপ
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মুজতবা সউদ চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন কাহিনিকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে। অন্তত ১৯৯৫ সাল থেকে তাঁর চলচ্চিত্রে কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়। একটি চলচ্চিত্রের গল্প লেখা আর সংলাপ লেখা একই কাজ নয়। গল্প নির্মাণ করে চলচ্চিত্রের মূল কাঠামো। আর সংলাপ চরিত্রকে কথা বলায়। মুজতবা সউদের কাজের বিশেষত্ব ছিল—অনেক চলচ্চিত্রেই তিনি একই সঙ্গে কাহিনি ও সংলাপ লিখেছেন।
১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আত্মরক্ষা’ চলচ্চিত্রে তিনি কাহিনি ও সংলাপ লিখেছিলেন। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘লালু সর্দার’-এরও কাহিনি ও সংলাপ তাঁর লেখা। এরপরের দুই দশকে তাঁর নাম পাওয়া যায় বাংলাদেশের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বিভিন্ন পর্যায়ে। অ্যাকশন, পারিবারিক, রোমান্টিক ও সামাজিক গল্প—বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেছেন।
মুজতবা সউদের যাচাইকৃত চলচ্চিত্রকর্ম
উন্মুক্ত চলচ্চিত্র ডেটাবেজে এখন পর্যন্ত যেসব চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে— আত্মরক্ষা (১৯৯৫) — কাহিনি ও সংলাপ, লালু সর্দার (১৯৯৫) — কাহিনি ও সংলাপ, খবর আছে (১৯৯৯) — যৌথ কাহিনি ও সংলাপ, শিবা গুন্ডা (১৯৯৯) — যৌথ কাহিনি, ভালোবাসার শত্রু (২০০২) — কাহিনি, কেয়ামত (২০০৩) — কাহিনি ও সংলাপ, মিশন শান্তিপুর (২০০৫) — কাহিনি ও সংলাপ, হাই রিস্ক (২০০৬) — কাহিনি ও সংলাপ, টেনশন (২০০৭) — কাহিনি ও সংলাপ, ছোট বোন (২০০৮) — কাহিনি ও সংলাপ, মায়ের স্বপ্ন (২০০৮) — কাহিনি ও সংলাপ, চাঁদের মতো বউ (২০০৯) — কাহিনি ও সংলাপ, মাটির ঠিকানা (২০১১) — যৌথ কাহিনি ও সংলাপ এবং লোভে পাপ পাপে মৃত্যু (২০১৪) — কাহিনি ও সংলাপ প্রভৃতি।
এটি তাঁর পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তালিকা বলে দাবি করা যাচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশের পুরোনো চলচ্চিত্রের পূর্ণাঙ্গ ও একক কোনো ডিজিটাল আর্কাইভ নেই। তবে উন্মুক্ত সূত্রে যাচাই করা চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা তাঁর সৃজনশীল কাজের ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়।
তাঁর চলচ্চিত্রজীবন অন্তত দুই দশক বিস্তৃত ছিল। ১৯৯৫ সালের চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের কাজ পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতি পাওয়া যায়।
‘চাঁদের মতো বউ’ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
মুজতবা সউদের সৃজনশীল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি আসে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চাঁদের মতো বউ’ চলচ্চিত্রের সংলাপের জন্য তিনি বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা নির্বাচিত হন। সমসাময়িক পুরস্কারসংক্রান্ত সংবাদে তাঁর নাম ‘মুহিব্বুল ইসলাম মুজতবা সউদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র-লেখক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ‘চাঁদের মতো বউ’-এ তিনি শুধু সংলাপ নয়, কাহিনিও লিখেছিলেন। অর্থাৎ একটি চলচ্চিত্রের মূল গল্প নির্মাণ থেকে চরিত্রের ভাষা তৈরি—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল।
গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ: তাঁর সৃষ্টির ধরন
মুজতবা সউদকে অনেক সংবাদে ‘কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার’ বলা হয়েছে। তবে চলচ্চিত্রের পৃথক ক্রেডিটগুলো দেখলে তাঁর সবচেয়ে ধারাবাহিক ভূমিকা ছিল কাহিনি ও সংলাপ রচনায়। ‘আত্মরক্ষা’, ‘লালু সর্দার’, ‘কেয়ামত’, ‘মিশন শান্তিপুর’, ‘হাই রিস্ক’, ‘টেনশন’, ‘ছোট বোন’, ‘মায়ের স্বপ্ন’ এবং ‘চাঁদের মতো বউ’—এসব চলচ্চিত্রে তাঁর নাম কাহিনি ও সংলাপ, উভয় ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়।
আবার কিছু চলচ্চিত্রে তিনি শুধু কাহিনি লিখেছেন। যেমন ‘ভালোবাসার শত্রু’। ‘শিবা গুন্ডা’য় তিনি যৌথ কাহিনিকার হিসেবে কাজ করেন। ‘মাটির ঠিকানা’য়ও তাঁর নাম যৌথ কাহিনি ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট লেখার ভূমিকায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। চলচ্চিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী গল্প নির্মাণ, চরিত্রের ভাষা তৈরি কিংবা অন্য লেখকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি ছিল।
সমসাময়িক বাস্তবতা নিয়ে চলচ্চিত্র
তাঁর পরবর্তী সময়ের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্র। ২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ভবনধস বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় শিল্পদুর্ঘটনা। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্রটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য পরিচালকের হলেও সংলাপ লিখেছিলেন মুজতবা সউদ। এই কাজটি তাঁর সৃজনশীলতার আরেকটি দিক তুলে ধরে।
তিনি শুধু বিনোদনধর্মী বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজ করেননি। বাংলাদেশের সমসাময়িক একটি বড় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
টেলিভিশন ও নাটকে কাজ
মুজতবা সউদের লেখালেখি শুধু বড় পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি টেলিভিশনের জন্যও লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘দান প্রতিদান’ নাটকের নাট্যরূপ করেছিলেন তিনি। এছাড়া ‘অতঃপর ভালোবাসা’ নামে একটি টেলিফিল্মের রচয়িতা হিসেবেও তাঁর নাম পাওয়া যায়।
চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্ম—তিনটি মাধ্যমেই তাঁর লেখার উপস্থিতি ছিল। ফলে তাঁকে শুধু চলচ্চিত্রের সংলাপ রচয়িতা হিসেবে সীমিত করলে তাঁর কাজের ব্যাপ্তি ধরা পড়ে না।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি সংরক্ষণের চেষ্টা
মুজতবা সউদের কাজের সবচেয়ে মানবিক এবং সম্ভবত সবচেয়ে কম আলোচিত দিকটি ছিল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তাঁর লেখালেখি। একজন কবি কখন জন্মেছিলেন। একজন গীতিকার কী লিখেছিলেন। কোনো শিল্পীর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কী ছিল—এসব বিষয় নিয়ে তিনি লিখতেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আবু হেনা মুস্তাফা কামালকে নিয়ে তাঁর লেখা এর একটি উদাহরণ। কিন্তু তাঁর লেখার বিষয়বস্তু শুধু তথ্য সাজানো ছিল না। তিনি ব্যক্তির জীবন, কাজ ও সময়কে পাঠকের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন।
ছটকু আহমেদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, কোনো পুরোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে মুজতবা সউদ যাচাইয়ের চেষ্টা করতেন। তথ্যের এই অনুসন্ধিৎসু স্বভাব একজন সাংবাদিকের পেশাগত বৈশিষ্ট্যও বটে। আজকের ডিজিটাল যুগে পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ সহজ মনে হলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির বহু ইতিহাস এখনও বিচ্ছিন্ন। অনেক তথ্য ছড়িয়ে আছে পুরোনো পত্রিকা, ব্যক্তিগত সংগ্রহ এবং মানুষের স্মৃতিতে। এই প্রেক্ষাপটে মুজতবা সউদের লেখালেখিকে সাংস্কৃতিক স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যক্তিগত প্রয়াস হিসেবেও দেখা যায়।
বাচসাস ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি বা বাচসাসের সঙ্গে মুজতবা সউদের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। সাম্প্রতিক স্মৃতিচারণে তাঁকে সংগঠনটির এক সময়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে সুস্থধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন অগ্রগামী কর্মী হিসেবেও স্মরণ করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদসূত্রে তাঁকে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সক্রিয় সদস্য বলা হয়েছে।
এই তিনটি পরিচয় তাঁর আগ্রহের পরিধি বোঝায়।
একদিকে চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের সৃজনশীল কাজ। পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।
তবে এসব সংগঠনে তাঁর পদ-পদবি বা নির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে অতিরিক্ত দাবি না করে এটুকুই বলা নিরাপদ যে তিনি চলচ্চিত্র, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন পরিসরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
মুজতবা সউদের জীবন শুধু সাংবাদিকতা ও শিল্পচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
১৯৯৩ সালে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনটি গড়ে ওঠে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু মানুষের সঙ্গে ছিলেন মুজতবা সউদও। এই তথ্য তাঁর কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
তিনি শুধু চলচ্চিত্র নিয়ে লিখতেন বা চলচ্চিত্রের জন্য লিখতেন না। নাগরিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দাবির আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতা, চলচ্চিত্র এবং সামাজিক আন্দোলন—এই তিন পরিসরে তাঁর উপস্থিতি তাঁর জীবনকে বহুমাত্রিক করেছে।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়: যে তথ্যগুলো এখনও অজানা
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর জীবন নিয়ে লেখা সহজ মনে হলেও নির্ভরযোগ্য জীবনী তৈরি করা সব সময় সহজ নয়। মুজতবা সউদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। বর্তমান অনুসন্ধানে তাঁর জন্মতারিখ, জন্মস্থান, শিক্ষাজীবন, বাবা-মায়ের নাম, স্ত্রী বা সন্তানদের পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য উন্মুক্ত সূত্র পাওয়া যায়নি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁর নাম ‘মুহিব্বুল ইসলাম মুজতবা সউদ’ হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে তাঁর পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনী নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত নথি এখনো উন্মুক্তভাবে পায়নি আমরা।
এই তথ্যের অনুপস্থিতি উল্লেখ করা জরুরি। কারণ স্মরণলেখার আবেগে অনুমানভিত্তিক তথ্য যোগ করলে সেটি ভবিষ্যতের গবেষণাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাঁর পরিবার, ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, বাচসাস বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
শেষ বিদায়
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই বহুমাত্রিক কর্মী এখন স্মৃতির অংশ। মুজতবা সউদের মৃত্যুতে তাঁকে নিয়ে সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে বারবার ফিরে এসেছে তাঁর কর্মনিষ্ঠা, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহের কথা।
মুজতবা সউদ আর নেই। কিন্তু তাঁর কাজের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল আছে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে। তিনি জীবনের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছেন অন্যদের স্মরণে রাখতে। পুরোনো শিল্পী, কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের জীবন নিয়ে লিখেছেন। তাঁদের জন্মদিন ও মৃত্যুদিনে পাঠকদের সামনে ফিরিয়ে এনেছেন তাঁদের কথা।
আজ তাঁকেও স্মরণ করা হচ্ছে। তাঁর লেখা গল্পগুলো হয়তো চলচ্চিত্রের চরিত্র হয়ে পর্দায় কথা বলেছে। তাঁর সংলাপ অভিনেতাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে। তাঁর সাংবাদিকতা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির নানা সময়কে ধরে রেখেছে। আর তাঁর স্মরণলেখাগুলো মনে করিয়ে দেয়—একটি সমাজের ইতিহাস শুধু বড় ঘটনার ইতিহাস নয়; মানুষের জীবন ও কাজকে মনে রাখার মধ্যেও ইতিহাস তৈরি হয়।
এই জায়গাতেই মুজতবা সউদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি শুধু চলচ্চিত্রের জন্য গল্প লিখতেন না। তিনি মানুষের স্মৃতিকেও গল্পের মতো ধরে রাখার চেষ্টা করতেন। আজ সেই স্মৃতি সংরক্ষণকারীকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার সময়।
FoEBD গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সাংবাদিক, লেখক, কাহিনিকার ও সংলাপ রচয়িতা মুজতবা সউদকে স্মরণ করছে।
তথ্যসূত্র
- আজকালের খবর: সাংবাদিক মুজতবা সউদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া
- বাংলা মুভি ডেটাবেজ (BMDb): মুজতবা সউদের চলচ্চিত্রকর্মের উদাহরণ
- bdnews24.com: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মুজতবা সউদ
- নিরাপদ সড়ক চাই: প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকা
- প্রথম আলো: ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রে মুজতবা সউদের সংলাপ
- মুজতবা সউদের লেখা: আবু হেনা মুস্তাফা কামাল





