কোনো বই নিষিদ্ধ হয়েছে। কোনো কবিতা প্রকাশের পর থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে। কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি। কোথাও আদালতের আদেশে প্রকাশনা বন্ধ হয়েছে, কোথাও রাষ্ট্রীয়ভাবে বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও লেখক, প্রকাশক বা শিল্পীর ওপর এমন চাপ তৈরি হয়েছে যে প্রকাশ বা প্রচার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
‘যা কিছু নিষিদ্ধ’ হলো এসব ঘটনার একটি দলিলভিত্তিক আর্কাইভ।
এই আর্কাইভে সময়, দেশ বা অঞ্চলভিত্তিক কোনো সীমা থাকবে না। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত কোনো বই, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রিকা, নাটক, গান, চলচ্চিত্র, শিল্পকর্ম, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো প্রকাশনা পৃথিবীর যে দেশেই, যে সময়েই নিষিদ্ধ বা দমন করা হয়ে থাকুক—যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা এখানে নথিভুক্ত করা হবে।
এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে সারা বিশ্বের আলোচিত মতপ্রকাশ-নিষেধাজ্ঞা ও সেন্সরশিপের ঘটনাগুলো।
তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের বাধাকে আমরা ‘নিষিদ্ধ’ বলে একসঙ্গে দেখব না। সরকারি নিষেধাজ্ঞা, বাজেয়াপ্তি, আদালতের আদেশ, প্রকাশ বা বিক্রি বন্ধ, বইমেলায় নিষেধাজ্ঞা, আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং কার্যত দমন—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হবে।
যে ঘটনার নিষেধাজ্ঞার দাবি পাওয়া যায় কিন্তু নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, সেটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না। প্রয়োজন হলে ‘নিষিদ্ধ বলে দাবি করা হয়েছে—প্রাথমিক প্রমাণ যাচাই হয়নি’ হিসেবে আলাদা করে উল্লেখ করা হবে।
এই আর্কাইভের লক্ষ্য কোনো বই, লেখক, সরকার বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়। লক্ষ্য হলো—কী নিষিদ্ধ হয়েছিল, কখন, কোথায়, কার দ্বারা, কোন কারণে এবং কীভাবে—তার তথ্য সংরক্ষণ করা।
কারণ কোনো মতপ্রকাশের ইতিহাস শুধু তার প্রকাশের ইতিহাস নয়; অনেক সময় তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসও সেই সমাজের ইতিহাস।





