সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করলে শেষ পর্যন্ত সরকারেরই ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
১৮ অক্টোবর রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।”
আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সরকারের সমালোচনা ও সাইবার অপরাধকে এক করে দেখা উচিত নয়। আইনের অপব্যবহারের সুযোগ থাকলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একজনের অপরাধের জন্য পুরো সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করার সুযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। ভুল তথ্যের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ জানান। সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেন তিনি। আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান নোয়াব সভাপতি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানও আইনটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম, প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি এবং অনলাইনে সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
সাংবাদিকদের বিচার ও সরঞ্জাম জব্দ নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন বা বাদ দেওয়ার দাবি জানান। মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান তুলে ধরেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও ডেটা সেন্টার জব্দ করার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার একটি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
অনলাইন এডিটর্স ফোরামের আহ্বায়ক শরীফুজ্জামান পিন্টু আইনের অস্পষ্ট বিধান, অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করার প্রক্রিয়া এবং সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির বিধান স্পষ্ট করা এবং সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, সমকাল, ঢাকা ট্রিবিউন





