গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’ (জেজেইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। সেখানে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ফেস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগরকে আহ্বায়ক এবং চ্যানেল আইয়ের আহসান কামরুলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে সাতজন যুগ্ম আহ্বায়ক রয়েছেন। তারা হলেন লুৎফর রহমান বাদল, তালুকদার রুমি, মাহমুদ রাকিব, আকতার হাবীব, শিমুল পারভেজ, রিয়াজুর রহমান রিয়াজ ও ইসরাফিল ফরাজী।
এ ছাড়া আবদুর রহিম, কেফায়েত শাকিল, নুরুল ইসলাম খান মামুন, ওবায়দুর রহমান, একেএম রেজাউল করিম, আশ্রাফ ফারুকী, নিজাম উদ্দিন দরবেশ ও রহমতুল্লাহকে যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকরাও রয়েছেন।
জেজেইউর আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, সংগঠনটি সময়ের প্রয়োজনেই গড়ে উঠেছে। জুলাইপন্থী সাংবাদিকদের জন্য সংগঠনটি উন্মুক্ত থাকবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।
সদস্য সচিব আহসান কামরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংবাদমাধ্যম প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এখনও রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।
তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে থাকার কথা বলেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে কোনো ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি না করার কথাও বলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদের সমালোচনার আগে নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি।
আলোকচিত্রী শহীদুল আলম নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সরকার পরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের যেন দেশ ছাড়তে না হয়, সে ধরনের সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেজেইউর যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি বলেন, আগের সরকারের সময়ও অনেক সাংবাদিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তাদের অনেকে তখন বঞ্চিত ছিলেন। এখনও তারা বঞ্চিত বলে তিনি দাবি করেন। জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
সংগঠনটির সদস্য খোমেনি এহসান বলেন, সাংবাদিকদের নির্ভয়ে সত্য বলার অধিকার নিশ্চিত করাই উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য। হামলা, মামলা বা চাকরিচ্যুতির হুমকি যেন সাংবাদিকতার পথে বাধা না হয়, সে বিষয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয় এবং শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন।
নতুন সংগঠনটির ঘোষিত অবস্থানের মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা, জনগণের জানার অধিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
তথ্যসূত্র





