বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পেশাজীবন জড়িয়ে আছে। সংবাদপত্রের সাংবাদিকতা, BBC World Service-এর সম্প্রচার সাংবাদিকতা এবং পরে অনলাইন সংবাদমাধ্যম—তিন ধরনের newsroom অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ২০০৬ সালে bdnews24.com-এর নেতৃত্বে আসেন।
এর দুই দশক পর, ২ অক্টোবর ২০২৬ লন্ডনে তাঁর মৃত্যু হলো। বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। bdnews24.com-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘ পেশাগত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সেই অধ্যায়টি শুধু একজন সম্পাদকের জীবনী নয়; বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কীভাবে প্রিন্ট থেকে ডিজিটালে প্রবেশ করেছে, তারও একটি অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদকক্ষে
তৌফিক ইমরোজ খালিদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেন। তাঁর সহপাঠী হিসেবে তাঁকে স্মরণ করেছেন বর্তমান তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা। ২ অক্টোবরের এক শোকবার্তায় তিনি জানান, তাঁরা একই সঙ্গে ইংরেজি বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর মাহবুবা ফারজানা সিভিল সার্ভিসে এবং খালিদী সাংবাদিকতায় যোগ দেন। তিনি The Daily Star-এ নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে BBC World Service-এ সাংবাদিকতা করেন।
প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের স্মৃতিচারণ থেকে তাঁর BBC-পর্বের একটি ব্যক্তিগত ছবি পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে bdnews24.com-এর ১৮ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে শফিক রেহমান বলেন, লন্ডনে BBC-তে কাজ করার সময় তাঁর সঙ্গে খালিদীর পরিচয় হয়েছিল। তাঁর স্মৃতি অনুযায়ী, তৌফিক ইমরোজ খালিদী BBC-এর চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে চেয়েছিলেন। এই প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর পেশাজীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় শুরু হয় BDNEWS-কে ঘিরে।
২০০৬: BDNEWS থেকে bdnews24.com
bdnews24-এর নিজস্ব পুরোনো আর্কাইভ অনুযায়ী, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। ওই বছরের জুনে তৌফিক ইমরোজ খালিদী Managing Director/Chief Executive হিসেবে দায়িত্ব নেন। নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠিত হয়ে bdnews24.com নামে যাত্রা শুরু করে; ২৩ অক্টোবর ২০০৬ সবার জন্য উন্মুক্ত ২৪/৭ অনলাইন সংবাদসেবা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।
তখন বাংলাদেশের সংবাদ ব্যবস্থায় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনই প্রধান মাধ্যম। ইন্টারনেট-ভিত্তিক সংবাদ তখনও নতুন। ফলে একটি ২৪ ঘণ্টার অনলাইন newsroom পরিচালনার জন্য শুধু ওয়েবসাইট তৈরি করাই যথেষ্ট ছিল না; সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রকাশ এবং পাঠকের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার নতুন কর্মপদ্ধতিও তৈরি করতে হয়েছিল।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পরবর্তী বক্তব্যগুলো থেকে জানা যায়, এই পরিবর্তনের সঙ্গে breaking-news service, mobile platform এবং SMS সংবাদসেবার মতো উদ্যোগও যুক্ত ছিল। ২০২১ সালে নিজের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের সামনে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর প্রশ্ন ছিল না; নতুন ধরনের digital journalism-এর পথ তৈরি করার প্রয়োজন ছিল। তাঁর ভাষায়, “We had to lead. We led, and others followed.”
দ্রুত সংবাদ, কিন্তু যাচাইয়ের প্রশ্নটি থাকত
অনলাইন সাংবাদিকতার একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো গতি। কিন্তু দ্রুত প্রকাশের সঙ্গে ভুল তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিও থাকে। তৌফিক ইমরোজ খালিদী বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা ও সম্পাদকীয় মানের কথা বলেছেন। ২০২৩ সালে bdnews24.com-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায়ও দ্রুত সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর নেতৃত্বে তৈরি newsroom-কে তাই শুধু “দ্রুত সংবাদ” হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি পাওয়া যায় না। তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যে দ্রুততার পাশাপাশি সংবাদ যাচাই এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্বও ছিল। এই জায়গাটিই তাঁর সাংবাদিকতার একটি ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় —ডিজিটাল গতির সঙ্গে সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়।
সহকর্মীদের স্মৃতিতে
দীর্ঘ সময় একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকার কারণে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পেশাগত সম্পর্কের পরিসরও ছিল বড়। সাংবাদিক বেবী মওদুদ ছিলেন bdnews24.com-এর Social Affairs Editor। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তৌফিক ইমরোজ খালিদী তাঁকে স্মরণ করে বলেছিলেন, তাঁরা একজন “সৎ, সাহসী এবং অসম্ভব স্নেহময়ী” মানুষকে হারিয়েছেন। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যটি সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি নথিভুক্ত স্মৃতি হিসেবে থেকে গেছে।
আরেক সহকর্মী ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। ২০১০ সালের মার্চে বার্গম্যান bdnews24.com-এ যোগ দেন এবং ওই বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন—তৌফিক ইমরোজ খালিদী নিজেই ২০২১ সালে এই সময়কাল উল্লেখ করেন। বার্গম্যানকে নিয়ে পরবর্তী সময়ে তিনি প্রকাশ্য মন্তব্য ছিল সমালোচনামূলক। তিনি সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের পার্থক্য নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা বলেন এবং বার্গম্যানের কাজের বিষয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। এই বক্তব্যটি খালিদীর ব্যক্তিগত/সম্পাদকীয় মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত; এটি বার্গম্যানের কাজ সম্পর্কে কোনো সর্বজনীন সিদ্ধান্ত নয়।
এই সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে—একটি newsroom-এর ভেতরে সম্পাদকীয় মত, পেশাগত মানদণ্ড ও সাংবাদিকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত কীভাবে তৈরি হতে পারে, তার একটি দালিলিক উদাহরণ এটি।
সম্পাদকীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন
তৌফিক ইমরোজ খালিদী শুধু একটি সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করেননি; সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের পেশাগত ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। Editors Guild, Bangladesh-এর নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মান নিয়ে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা ছিল।
২০২৪ সালে bdnews24.com-এর ১৮ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন চাপ ও বাধার কথাও বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের নিজের দায়িত্ব—দুই বিষয়ই পাশাপাশি ছিল।
আইনি অধ্যায়: অভিযোগ, মামলা এবং অব্যাহতি
তাঁর পেশাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায় ছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা। ২০১৯ সালে তাঁর সম্পদ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়। ২০২০ সালের ৩০ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। The Daily Star-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলায় তাঁর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৪২ কোটি টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। খালিদী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর দুদক মামলাটির prosecution প্রত্যাহারের আবেদন করে। ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
পরে ২৪ অক্টোবর ২০২৪-এ bdnews24.com-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে খালিদী বলেন, মামলা প্রত্যাহার হলেও কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক জটিলতা তখনও রয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তাঁর এবং bdnews24.com-এর বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ তাঁর জীবনীতে রাখার কারণ হলো—একজন সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তা ও সম্পাদকের পেশাগত জীবনে আইনি চাপ কীভাবে এসে পড়েছিল, তার একটি নথিভুক্ত উদাহরণ এটি। তবে মামলার অভিযোগকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না; কারণ ২০২৪ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং আদালত তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’: সংবাদকক্ষের বাইরে
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সম্পাদনা ও archival কাজ। ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ তিন খণ্ডে পরিকল্পিত একটি সংকলন, যার প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি। প্রথম খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিভিন্ন লেখা ও উপাদানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বইটির ভূমিকায় তৌফিক ইমরোজ খালিদী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে একটি দীর্ঘ ও বহুস্তরীয় সংগ্রামের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু বিষয়বস্তুর কারণে নয়। সাংবাদিকতার মতো এখানেও তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন লেখা ও উপাদান নির্বাচন, সম্পাদনা এবং পাঠকের সামনে একটি সংগঠিত নথি হিসেবে হাজির করা। তাঁর সম্পাদকীয় চিন্তার একটি দিক এই কাজেও দেখা যায়—ইতিহাসকে কেবল প্রচলিত বয়ান হিসেবে না দেখে নথি, লেখা ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে পুনরায় পাঠ করা।
তরুণ ও শিশুদের সাংবাদিকতায় আনা
২০১৬ সালে bdnews24.com ও UNICEF-এর উদ্যোগে Prism নামে শিশুদের ভিডিও সংবাদসেবা চালু হয়। এর লক্ষ্য ছিল শিশুদের নিজেদের জীবন ও এলাকার গল্প বলার জন্য সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দেওয়া। এই উদ্যোগ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতা-ভাবনার আরেকটি দিক তুলে ধরে। সংবাদ শুধু পেশাদার সাংবাদিকের তৈরি পণ্য নয়; প্রশ্ন করা, তথ্য খোঁজা এবং নিজের চারপাশের ঘটনা নথিবদ্ধ করার ক্ষমতাও সাংবাদিকতার অংশ। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান তাই শুধু সংবাদ প্রকাশের জায়গা ছিল না; নতুন প্রজন্মকে সংবাদ তৈরির সঙ্গে পরিচিত করানোর উদ্যোগও সেখানে দেখা যায়।
স্বীকৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা
২০১৭ সালে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তৌফিক ইমরোজ খালিদী জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের English Department Alumni Society-এর সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়-পর্বের সঙ্গে পরবর্তী পেশাগত জীবনের এই সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল।
তবে তাঁর পেশাগত পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ কোনো পুরস্কার বা সাংগঠনিক পদ নয়। সেটি গড়ে উঠেছিল দীর্ঘ সময় ধরে একটি অনলাইন newsroom পরিচালনা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণের মধ্য দিয়ে।
“শুধুই সাংবাদিকতা, সবসময়!”
২০২৫ সালে bdnews24.com-এর ১৯ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে তৌফিক ইমরোজ খালিদী তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মদর্শন হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহার করেন: “শুধুই সাংবাদিকতা, সবসময়!”একই বক্তব্যে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাজকে ক্ষমতার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
২০০৬ সালে যে প্রতিষ্ঠানকে নতুন রূপ দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক পরও তিনি তার মূল পরিচয় হিসেবে সাংবাদিকতাকেই সামনে রাখছিলেন।
শেষ অধ্যায়
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২ অক্টোবর শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতির শোকবার্তায় খালিদীকে বাংলাদেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে অবদানের কথা বলা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শোক জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে bdnews24.com বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সহপাঠী ছিলেন, তাঁকে একজন সজ্জন ও বরেণ্য সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পেশাজীবনকে এক বাক্যে ধরতে গেলে হয়তো বলা যায়—তিনি সংবাদমাধ্যমের একটি পরিবর্তনের সময়ের মধ্য দিয়ে কাজ করেছেন। প্রিন্ট সাংবাদিকতা থেকে BBC-এর সম্প্রচার সাংবাদিকতা, সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টার অনলাইন newsroom; পরে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মান, শিশু ও তরুণদের সংবাদচর্চায় যুক্ত করা এবং ইতিহাসভিত্তিক সম্পাদনা—তাঁর কাজের পরিসর এই কয়েকটি ক্ষেত্রকে ছুঁয়ে গেছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান হলো। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে তৈরি newsroom, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদিত কাজ এবং তাঁর নিজের বক্তব্যগুলো বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র
-
- ২০০৬ সালে bdnews24.com-এর প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তী newsroom development
- ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় newsroom এবং সে সময়ের সংবাদসেবা সম্পর্কে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বক্তব্য রয়েছে।
- ‘সংবাদপত্রে ‘নতুন লাইন’ তৈরি করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর: শফিক রেহমান’ — bdnews24.com
- শাসন করা নয়, শাসকদের জবাবদিহিতায় আনাই সংবাদমাধ্যমের কাজ — bdnews24.com
- বেবী মওদুদের মৃত্যুতে খালিদীর স্মৃতিচারণ
- ডেভিড বার্গম্যানের ‘সমস্যা কোথায়’, বললেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী
- ‘শিকলভাঙার ইতিহাস ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ — bdnews24.com
- রক্তরেখায় বাংলাদেশ: দ্বিতীয় খণ্ডে বাঙালির বহুমাত্রিক জনযুদ্ধের ইতিহাস — bdnews24.com
- ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’: সাড়ে পাঁচশ দুর্লভ আলোকচিত্রে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম — bdnews24.com
- Graft case against bdnews24.com editor-in-chief withdrawn — The Daily Star
- High Court asks why ACC case against bdnews24.com’s Khalidi will not be quashed — bdnews24.com
- Legal woes end, but path forward is fraught with obstacles: Toufique Imrose Khalidi — bdnews24.com
- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই — bdnews24.com
- ২০০৬ সালে bdnews24.com-এর প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তী newsroom development





