October 29, 2026 11:12 am
October 29, 2026 11:12 am

‘যুগবাণী’: নজরুলের যে বই বাজেয়াপ্ত করেছিল ব্রিটিশ সরকার

‘যুগবাণী’: নজরুলের যে বই বাজেয়াপ্ত করেছিল ব্রিটিশ সরকার

১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর। ব্রিটিশ ভারতের বাংলার সরকার কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বইটির সব কপি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, বইটিতে ব্রিটিশ ভারতে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা সৃষ্টিকারী বক্তব্য রয়েছে। এ পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৯৯এ ধারা উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে ছিল।

বাজেয়াপ্তির বিজ্ঞপ্তির নম্বর ছিল ১৬৬৬১ পি। এর ইংরেজি পাঠ ও পরবর্তী সরকারি চিঠিপত্রের অংশ প্রকাশিত হয়েছে ‘কালি ও কলম’-এর এই লেখায়।

বইটি প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে

যুগবাণী কবিতার বই নয়। এটি নজরুলের প্রবন্ধের সংকলন। এর অধিকাংশ লেখা ১৯২০ সালে দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। বইটিতে রাজনীতি, সমাজ, উপনিবেশবাদ ও সমকালীন নানা বিষয় উঠে এসেছে। বইটি কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত হয়। মেটকাফ প্রেসে এর মুদ্রণ হয়েছিল।

প্রকাশের দিন নিয়ে একটি সূত্রে দুই ধরনের তারিখ পাওয়া যায়। কালি ও কলম-এর বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ১৯২২ ধূমকেতু পত্রিকায় বইটির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর ১৯২২।

তল্লাশি ও বই জব্দ

বইটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণার পর ধূমকেতু পত্রিকার কার্যালয়, মেটকাফ প্রেস ও আর্য পাবলিশিং হাউসে তল্লাশি চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। কালি ও কলম-এ পুনর্মুদ্রিত সরকারি চিঠিপত্রে প্রায় ৩৫০ কপি বই জব্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। নথিতে আর্য পাবলিশিং হাউসের বইটি বিক্রির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

১৯২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আর্য পাবলিশিং হাউসের ব্যবস্থাপক শরৎচন্দ্র গুহকে পাঠানো একটি সরকারি চিঠিতেও বইটি বাজেয়াপ্ত করার প্রসঙ্গ ছিল। ওই চিঠিতে ভবিষ্যতে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে তারিখের অমিল

যুগবাণীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তারিখ নিয়ে প্রকাশিত সূত্রে অমিল রয়েছে। কালি ও কলম-এর একটি লেখায় ১৯৪৫ সালের উল্লেখ আছে। একই লেখায় ১৯৪৭ সালের ৩১ মার্চ তারিখটিও দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি অনলাইন বই-পরিচিতিতে ১৯৭৭ সালের কথা বলা হয়েছে।

এ অনুসন্ধানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মূল সরকারি আদেশ বা গেজেটের কপি পাওয়া যায়নি। তাই কোন তারিখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র


‘বিষের বাঁশী’: ১৯২৪ সালে বাজেয়াপ্ত নজরুলের কাব্যগ্রন্থ
যা কিছু নিষিদ্ধ

‘বিষের বাঁশী’: ১৯২৪ সালে বাজেয়াপ্ত নজরুলের কাব্যগ্রন্থ

১৯২৪ সালের অক্টোবর। ব্রিটিশ ভারতের বাংলার সরকার কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। বইটির সব কপি জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারের অভিযোগ

বিস্তারিত »
‘সংস্কৃতির সংকট’: নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার মুখে বদরুদ্দীন উমরের বই
যা কিছু নিষিদ্ধ

‘সংস্কৃতির সংকট’: নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার মুখে বদরুদ্দীন উমরের বই

‘সংস্কৃতির সংকট’-এ বাঙালি সংস্কৃতি, মুসলিম সংস্কৃতি, ঊনিশ শতকে মুসলিম শিক্ষা ও মাতৃভাষা চর্চা, একুশে ফেব্রুয়ারি ও সাংস্কৃতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার মাধ্যম, ছাত্ররাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং

বিস্তারিত »
পাকিস্তান আমলে নিষেধাজ্ঞা ও বাজেয়াপ্তির মুখে পড়া সত্যেন সেনের ‘আলবেরুনী’-র প্রতীকী চিত্র।
যা কিছু নিষিদ্ধ

‘আলবেরুনী’: পাকিস্তান আমলে নিষিদ্ধ এক ঐতিহাসিক উপন্যাস

সত্যেন সেন ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক সংগ্রাম—দীর্ঘ সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি শ্রমিক

বিস্তারিত »
‘সত্যের মতো বদমাশ’: অশ্লীলতার অভিযোগে বাজেয়াপ্ত এক গল্পগ্রন্থ
যা কিছু নিষিদ্ধ

‘সত্যের মতো বদমাশ’: অশ্লীলতার অভিযোগে বাজেয়াপ্ত এক গল্পগ্রন্থ

আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিক ষাটের দশকেই বাংলা সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র

বিস্তারিত »
১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনের সময়ে মিনার মনসুরের ‘এই অবরুদ্ধ মানচিত্রে’ বাজেয়াপ্ত হওয়ার প্রতীকী চিত্র।
যা কিছু নিষিদ্ধ

‘এই অবরুদ্ধ মানচিত্রে’: সামরিক শাসনে বাজেয়াপ্ত এক কাব্যগ্রন্থ

মিনার মনসুর বাংলাদেশের কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তাঁর জন্ম ২০ জুলাই ১৯৬০, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বরলিয়া গ্রামে। লেখালেখির শুরু সত্তরের দ্বিতীয়ার্ধে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ

বিস্তারিত »
একটি কবিতা, রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ও দীর্ঘ নির্বাসনের প্রতীকী চিত্র।
তথ্যভাণ্ডার

দাউদ হায়দার: একটি কবিতা, রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ও নির্বাসন — ১৯৭৪

দাউদ হায়দার ছিলেন বাংলাদেশের কবি, লেখক ও সাংবাদিক। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তিনি তরুণ কবি হিসেবে পরিচিতি পান এবং দৈনিক সংবাদ-এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেন।

বিস্তারিত »