১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর। ব্রিটিশ ভারতের বাংলার সরকার কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বইটির সব কপি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, বইটিতে ব্রিটিশ ভারতে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা সৃষ্টিকারী বক্তব্য রয়েছে। এ পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৯৯এ ধারা উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে ছিল।
বাজেয়াপ্তির বিজ্ঞপ্তির নম্বর ছিল ১৬৬৬১ পি। এর ইংরেজি পাঠ ও পরবর্তী সরকারি চিঠিপত্রের অংশ প্রকাশিত হয়েছে ‘কালি ও কলম’-এর এই লেখায়।
বইটি প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে
যুগবাণী কবিতার বই নয়। এটি নজরুলের প্রবন্ধের সংকলন। এর অধিকাংশ লেখা ১৯২০ সালে দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। বইটিতে রাজনীতি, সমাজ, উপনিবেশবাদ ও সমকালীন নানা বিষয় উঠে এসেছে। বইটি কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত হয়। মেটকাফ প্রেসে এর মুদ্রণ হয়েছিল।
প্রকাশের দিন নিয়ে একটি সূত্রে দুই ধরনের তারিখ পাওয়া যায়। কালি ও কলম-এর বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ১৯২২ ধূমকেতু পত্রিকায় বইটির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর ১৯২২।
তল্লাশি ও বই জব্দ
বইটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণার পর ধূমকেতু পত্রিকার কার্যালয়, মেটকাফ প্রেস ও আর্য পাবলিশিং হাউসে তল্লাশি চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। কালি ও কলম-এ পুনর্মুদ্রিত সরকারি চিঠিপত্রে প্রায় ৩৫০ কপি বই জব্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। নথিতে আর্য পাবলিশিং হাউসের বইটি বিক্রির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
১৯২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আর্য পাবলিশিং হাউসের ব্যবস্থাপক শরৎচন্দ্র গুহকে পাঠানো একটি সরকারি চিঠিতেও বইটি বাজেয়াপ্ত করার প্রসঙ্গ ছিল। ওই চিঠিতে ভবিষ্যতে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে তারিখের অমিল
যুগবাণীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তারিখ নিয়ে প্রকাশিত সূত্রে অমিল রয়েছে। কালি ও কলম-এর একটি লেখায় ১৯৪৫ সালের উল্লেখ আছে। একই লেখায় ১৯৪৭ সালের ৩১ মার্চ তারিখটিও দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি অনলাইন বই-পরিচিতিতে ১৯৭৭ সালের কথা বলা হয়েছে।
এ অনুসন্ধানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মূল সরকারি আদেশ বা গেজেটের কপি পাওয়া যায়নি। তাই কোন তারিখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র





